নিজের সংগে নিজের যুদ্ধ চালাচ্ছিল হেমন্ত সরখেল

দেবজ্যোতি রায়

নিজের চিতায়(যদিও এখানে নিজস্ব লিখলেই ভাল হত,কারণ প্রত্যেক মানুষেরই নিজস্ব চিতা বা আপনি কবরও বলতে পারেন,তবে এক্ষেত্রে চিতা-ই,থাকে) উপুড় হয়ে শুয়ে থাকবার কালে হেমন্তের যা মনে এল,হেমন্ত সরখেল,বয়স à§­à§­,ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক সামলাতে না পেরে,à¦—à¦¤à¦°à¦¾à¦¤à §‡ হেমন্ত,à¦¨à¦‡à¦²à ‡ এমনিতে তো সুস্থই ছিল,বাজার-à¦¹à ¾à¦Ÿ সবই নিজে গিয়ে করত,সকালে নিয়ম করে ৩০ মিনিট হাঁটা যতটা জোরে এ-বয়সে সম্ভব,হাল্ঠা কিছু ব্যায়াম,এই যেমন দুই পা দু'দিকে ছড়িয়ে কোমরটাকে বেঁকিয়ে,à¦¹à¦¾à ¦¤à§‡à¦° আঙুল হাঁটুর নিচে নামানো এই বয়সে এক অসম্ভব প্রকল্প,à¦•à¦¿à ‚à¦¬à¦¾ জোরে জোরে শ্বাস নেওয়া ও ছাড়া,এরকম,à¦¯à §‡à¦—ুলো সম্ভব আর কী,প্রেসার- ¦¸à§à¦—ার,এই বয়সে কার না বাড়ন্ত,ওষুঠ§ খেত হেমন্ত,প্রৠ‡à¦¸à¦¾à¦°à§‡à¦°,সুগা রের,তবু ডাক্তার বলেছিল,à¦¹à¦¾à¦à Ÿà¦¾ কিন্তু মাস্ট,ওই ৩০ মিনিটই যথেষ্ট,প্রঠ¤à¦¿à¦¦à¦¿à¦¨,যে-কোঠো সময়,নিয়মিত যোগাযোগ ডাক্তারের সংগে,দু'তিন ¦®à¦¾à¦¸ অন্তর প্রেসারটা,ঠ¸à§à¦—ারটা,চেক করিয়ে নেওয়া,à¦¸à§à¦•à§à ¦²à§‡à¦° নিচুক্লাসৠ,বন্ধুরা 'সরখেল' পদবীটা নিয়ে খেলত,à¦–à§à¦¯à¦¾à¦ªà ¦¾à¦¤,সর খেলো,সর খেলো,তাতে ফিক করে হাসি পেল হেমন্তর।

ওই বয়সে কেউ একা থাকে না,সাধারণত,ঠà¦•াকীত্বের বোধটাই জন্মায় না তখন,মানুষ একা হয়,একা হতে থাকে,বয়স বৃদ্ধির সংগে পাল্লা দিয়ে,চু-à¦•à¦¿à§Žà ¦•িৎ খেলতে খেলতে সময়ের সংগে,একাকৠত্বটা আসলে একটা বোধ,অনেকের ই অবশ্য সে-বোধ জন্মায় না,অনেকেরই বোধ যেমন হাঁটু অবধি পৌঁছতে না পৌঁছতেই আটকে যায়,সারাজীঠ¬à¦¨ আটকে থাকে ওই হাঁটুতেই,à¦šà ¾à¦°à¦ªà¦¾à¦¶à§‡ আত্মীয়স্বঠœà¦¨,à¦¬à¦¨à§à¦§à§à¦¬à¦¾à¦¨à à¦§à¦¬,সন্তানে ¦° মায়া,স্ত্রৠর পরিচর্যা(এঠানে পুংকথা লিখিত হইতেছে),মাঝ খানে উজ্জ্বল তুমি হইয়া আছ,কিন্তু ভিড়ের মাঝে-ও আসলে তুমি একা,তুমি জান কি জাননা তাও বোঝনা,জানত হেমন্ত,কেউ কারো মত নয়,মানুষকে,à ¦¸à§‡ তোমার স্ত্রী হলেও,à¦¸à¦¨à§à¦¤à¦¾à ¨,প্রিয় বন্ধু,à¦•à¦¿à¦‚à¦¬à ¾ ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের মধ্যেও,à¦à¦•à¦œà ¦¨ মানুষ গভীরতর ভাবে ছুঁতে পারেনা অন্য একজন মানুষকে,সে তোমার যতই ফিজিকাল নিকটে কিংবা দূর,তোমাকে ¦“ গভীরতর ভাবে ছুঁতে পারেনা কেউ,হেমন্ত জানত।

সরও তো তুমি খেয়েছিলে হেমন্ত,à¦–à¦¾à¦“à ¦¨à¦¿ কি সর জীবনের,সর খেলো তো একর্থে কমবেশি à¦ªà§à¦°à¦¤à§à¦¯à§‡à¦•à§‡à ‡,যেজন্য জীবন একইসঙ্গে মধুর এবং তিতকুটেও,খ §à¦¬à¦‡ ছোট বয়সে যে বয়সে হাগু করে একা একা ছুঁচু করতে পারেনা কেউ-ই,হয় মা কিংবা সংসারের বয়স্ক অন্যকেউ,হে মন্তর এক দিদি ছিল,সে দিদিও,à¦•à¦¤à¦¦à¦¿à ¨,দিদি আর বেঁচে নেই,মা-ও,বাব া তো হেমন্ত যখন ক্লাস সিক্স কি সেভেন,à¦¨à§à¦¯à¦¾à œà¦¾ মাথায় ধুতি পরে শ্রাদ্ধে বসে,হাসি পেয়ে গেছিল হেমন্তর,যাঠšà§à¦›à¦¿à¦² বারবার,বকাঠ“ সেজন্য খেয়েছিল খুব,কিন্তু নিজের বাবার শ্রাদ্ধে বসেও হাসি সামলাতে পারেনি হেমন্ত,পুরৠ‹à¦¹à¦¿à¦¤à§‡à¦° অদ্ভুত অঙ্গভঙ্গি, হেমন্ত তারও অনেক আগে,যখন একেবারেই ছোট,শৈশব,à¦®à¦¨à §‡ পড়ে গেল হেমন্তর,হাঠ—ু করে হাগু খাচ্ছিল,à¦¦à§‚à ¦° থেকে মা দেখতে পেয়েই চিৎকার করে দৌড়ে,এ-à¦®à§à¦®à§à ¯à¦¾,ছিঃ,তুলে নিয়ে গিয়ে,ফিক করে ফের একবার হাসি পেল হেমন্তর,নিঠœà§‡à¦° চিতায় উপুড় হয়ে শুয়ে থাকা à¦…à¦¬à¦¸à§à¦¥à¦¾à¦¤à§‡à¦‡à ¤

পরক্ষণেই একটা গভীর ভাবনাও,à¦•à§‹à¦¤à §à¦¥à§‡à¦•ে হেমন্ত জানে না,ভুস করে ভেসে যেমন তিমি সমুদ্রে,à¦¯à§‡à ¨ উঠল হেমন্তর মস্তিষ্কেঠ° এ-মুহূর্তে মৃত কোনো কোষে,মন তো আসলে সেখানেই থাকে যাকে মন বলি আমরা,'এসেছ ন্যাংটো একা,যাবেও ন্যাংটো একা',à¦¨à§à¦¯à¦¾à¦‚à¦Ÿà §‹ হয়েই তো উপুড় শুয়ে এখন হেমন্ত,মাঝঠ–ানের এই যে জীবন,যা আসলেই বলেছিলেন কেউ কেউ,রঙ্গমঞ ্চ,এই রঙ্গমঞ্চে আমরা à¦ªà§à¦°à¦¤à§à¦¯à§‡à¦•à§‡à ‡ একেকজন অভিনেতা,à¦…à¦­à ¦¿à¦¨à§Ÿ করে যাচ্ছি যে যার নির্দিষ্ট ভূমিকায়---এর ¦•মই বোধহয় যতদূর মনে পড়ছে হেমন্তর,à¦›à¦¿à ² কথাটা,à¦…à¦¨à§à¦§à •à¦¾à¦° থেকেই তো আসি আমরা,ফিরে যাই ফের অন্ধকারে,à¦®à ¦¾à¦à¦–ানের এই আলোকিত অংশটুকু,à¦¯à¦¾à ¦•ে জীবন বলি,তাহলে আসবার আগের যে অন্ধকার,à¦­à¦¾à ¬à¦¤à§‡ থাকে হেমন্ত,মনে পড়ে রবিঠাকুরেঠ° কবিতাটা,'à¦‡à¦šà §à¦›à§‡ হয়ে ছিলি মনের মাঝারে',মা খোকার যেখানে প্রশ্নের উত্তরে বলছেন,à¦†à¦¸à¦¬à¦¾à ¦° আগের যে অন্ধকার,à¦¯à§‡à ¦–ানে ছিলাম আমি,যেখান থেকে এলাম একা,সে অন্ধকার কি মায়ের মনের গভীরে কোথাও থাকা অন্ধকার,সে অন্ধকার কি আলোকিত অন্ধকার নয়,এবং মৃত্যুর পরের যে অন্ধকার,à¦†à¦®à ¦°à¦¾ কি সত্যি ফিরি কোথাও,অন্য ¦•োনো নিজস্ব অন্ধকারে,à¦œà ¦¨à§à¦®à¦¾à¦¬à¦¾à¦° পরে যে জগতকে দেখি,জীবনক §‡,তারই সমান্তরালৠএকইসঙ্গে কি বয়ে চলে অন্য এক জগৎ,অন্য জীবন,জগতের সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণিটিও আজও খুঁজে পায়নি এর উত্তর,হয়ত পাবেও না---এরকম সব কিলবিলে ভাবনায় ঘেঁটে 'ঘ' হতে থাকে চিতায় উপুড় হয়ে শুয়ে থাকা হেমন্ত !

কৌম্যচেতনঠ¾ থেকে যত দূরে সরে এসেছে মানুষ সভ্যতা গড়তে গড়তে,à¦¸à¦­à§à¦¯à¦¤à ¾à¦° সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ক্রমশ উঠতে উঠতে, ততবেশি সমাজের মধ্যে থেকেও,পরিব ¦¾à¦°à§‡à¦° মধ্যে থেকেও,আত্ম ীয়স্বজন,বনৠà¦§à§à¦¬à¦¾à¦¨à§à¦§à¦¬,à¦à •à¦‡ ভাবনার লোকেদের মধ্যে থেকেও,মানু ¦· জানেই না সে কীভাবে কখন একা হয়ে গেছে ! ভয়ংকর ভাবে একা। আসলে। যখন তোমার পাশের লোকটিকেও আর স্পর্শ করতে পারছ না তুমি,সেও তোমাকে ! তুমি এহবাহ্য,নিঠেকেই কি পার খুব গভীরে গিয়ে ছুঁতে ? তোমার শরীর ও মনের যে ঐক্য যা ওই কৌম্যচেতনঠ¾à¦° মধ্যে ছিল,সে তো কবেই গিয়েছে ভেঙে। নিজের কাছেও তুমি অনেকটাই অচেনা। আয়নায় যে তোমাকে তুমি দেখ,সে তোমার বাইরের প্রতিরূপ, তোমার ভেতরও কি দেখায় আয়না তোমাকে ?

ফলে যে মানুষ নিজের থেকেই নিজে বিচ্ছিন্ন,ঠà¦•া,বহুদূরে চলে গেছ তুমি,মানুষৠর ভেতরে খুব গভীরে কোথাও কৌম্যচেতনঠ¾à¦Ÿà¦¾à¦•ে সে বোধহয় আজও ক্যারি করে জন্য,জোট বাঁধে,সমাজ-à ªà¦°à¦¿à¦¬à¦¾à¦°-আত্ম §€à§Ÿà¦¸à§à¦¬à¦œà¦¨-বনৠধুবান্ধব-বঠ¾à¦‡à¦°à§‡ থেকে মনে হওয়া একই ভাবনার লোকজন,à¦•à¦¿à¦¨à§à ¦¤à§ মেলে না কোথাও। à¦à¦•à¦¾à¦•à§€à¦¤à§à¦¬à¦Ÿà ¾à¦•à§‡ বহন করে বুঝে বা না-বুঝেও।

মৃত হেমন্ত,নিজঠ¸à§à¦¬ চিতায় উপুড়হয়েশুৠŸà§‡,à¦ªà§à¦°à¦¸à§à¦¤à§à¦¤à ¦¿ চলছে ওর ঘাড়ে,পিঠে,à¦ªà ¦¾à¦›à¦¾à§Ÿ,এবং হাঁটু যেখানে ভাঁজ করা,যেখান থেকে শুরু পায়ের পাতা,সেসব জায়গায়,à¦•à¦¾à¦ à ‡à¦° ভারী লগ চাপিয়ে দেবার,à¦¨à¦¿à¦œà§‡à ° à¦à¦•à¦¾à¦•à§€à¦¤à§à¦¬à§‡à ¦° সংগে লড়াই করছে,খুব গভীরে গিয়ে যা হয়ত মৃত্যুর পরেই সম্ভব,নিজেঠ° à§­à§­ বছরের জীবনটাকে বুঝে নিতে চাইছে,রায় ও মার্টিনের সাজেশন বুক সেকালে না থাকায় ম্যাট্রিকৠধ্যাড়ানো ভাগ্যিস হেমন্ত সরখেল তখন একীভূত করতে চাইছে নিজের শরীর ও মনকে। পরিপূর্ণভঠবে। ডুবে যেতে চাইছে নিজের ভেতরে।

হেমন্তর ছোট ছেলে হাতে পাটকাঠির গুচ্ছ জ্বালিয়ে তখন এগিয়ে আসছিল ওর মুখে আগুন ছোঁয়াবে বলে।